সবকিছু থেকে মুক্ত, শুধু শান্তিতে ও আনন্দে বেঁচে থাকার ইচ্ছা ছিল হান ফেই ইউয়ের। জুলাই মাসের একদিন তার শৈশবের সঙ্গী ফোন করল, আর তারপর থেকে তার জীবনের সমস্ত কিছু একেবারে বদলে গেল…
২০২০ সাল।
জানালার বাইরে উজ্জ্বল রোদ ঝলমল করছে। হান ফেই-ইউ আধা ঘুম-আধা জাগরণের মাঝে, শরীরে পাতলা চাদর জড়ানো, প্রশস্ত নরম বিছানায় নিজেকে গুটিয়ে রেখেছে।
এখন জুলাই মাসের মাঝামাঝি, সম্ভবত বছরের সবচেয়ে গরম সময়, অসহনীয় এক উষ্ণতা। এই রকম আবহাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই মানুষ ঘরের মধ্যে মাথা ঢেকে ঘুমিয়ে কাটাতে চায়, যেন দিন-রাতের হদিস থাকে না।
কিন্তু কর্মজীবী মানুষের অবশ্যই নিজের কর্তব্য পালন করা উচিত, সোজাসাপটা উঠে পড়ে, যতক্ষণ ইট গরম হয়ে ওঠেনি, কাজ শুরু করাই যেন ভাগ্যে লেখা। কর্মজীবী, কর্মপ্রাণ—কাজই সব কিছুর পথ! এগিয়ে চলো, এগিয়ে যাও! কাজই রাজপথ, অন্য সব পথ বিভ্রান্তি।
হান ফেই-ইউ আধভোরা চোখে তাকিয়ে বিছানার চাদর এলোমেলোভাবে পাশে রাখল। গলা শুকিয়ে আছে, অস্বস্তি লাগছে, টেবিলের উপর রাখা জগ থেকে এক গ্লাস জল ঢেলে খেল।
টুপটাপ করে জল খেয়ে মাথার ঝিমধরা ভাব কেটে গেল। তিন বছর ধরে ব্যবহৃত পুরো চার্জ দেওয়া মোবাইলটা হাতে নিয়ে স্ক্রিন অন করল।
অন্ধকারাচ্ছন্ন স্ক্রিনে বড় বড় অক্ষরে তারিখ ও সময় ফুটে উঠল—১৬ জুলাই, সকাল সাতটা পনেরো। দুটো ছোট ছোট লাইন, তার ফোনের মতোই পুরনো দিনের ছোঁয়া।
এ যুগে প্রযুক্তি এত দ্রুত বদলায়, যে আজকের নতুন গ্যাজেট কালই অচল হয়ে যায়। কখনো কখনো মানুষের জীবনও তো এমনই! হা হা হা।
হান ফেই-ইউ বিছানার ধারে বসে মাথা নামিয়ে, একটু শরীর মেলে, ঠিক করল এবার উঠে ফ্রেশ হয়ে কাজ শুরু করবে।
কিন্তু... কোথাও কি ভুল হচ্ছে না?
হান ফেই-ইউ মাথা ঝাঁকাল, মনে হল কিছু একটা ভুলে গেছে। অভ্যাসবশত ফোনটা চোখের সামনে নিল। কিছু টিপে স্ক্রিনের কোণায় ছোট ছোট অক্ষর দেখল।
আজ রবিবার! আজ তো ছুটির দিন! ছুটির দিন!
এইবার তো কিছু করার নেই, ধুতে যাওয়ারও দরকার নেই, কাজে যাওয়ারও দরকার নেই, মাটি কাটারও দরকার নেই!
হান ফেই-ইউ এক নিমেষে যেন হঠাৎ হারিয়ে যাও