সদ্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হওয়ার পর, মাত্র কিছু বছরের মধ্যেই তিনি হয়ে ওঠেন ইস্পাত শিল্পের এক বিশাল ক্ষমতাধর ব্যক্তি! তিনি দেখে এসেছেন মানুষের নানা রকম আচরণ, প্রশাসনিক মহলের প্রবল লোভ ও স্বার্থপরতা, আর প্রলোভনের মুখোমুখি হয়ে দেখেছেন কুৎসিত মুখগুলো — সবকিছুই যেন এই সমাজের বাস্তবতা নিয়ে কথা বলে। লেখকের নিজস্ব পরিচিতি: আবেগ, অনুপ্রেরণা, ছাত্রজীবন, কর্মজীবন।
২০০৪ সালের ২৮ জুন সন্ধ্যা, পুরো স্কুলের ছাত্রাবাস ভবনটি তখন অনেকটাই ফাঁকা হয়ে উঠেছে, এদিক-ওদিক যাতায়াত করা ছায়াগুলোও সব ব্যস্ততায় ছুটছে। চেন শু বিছানায় শুয়ে এমনকি জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়ার কথাও ভেবেছিল। মা-বাবা দাঁত চেপে টাকা জোগাড় করে তাকে পড়াতে পাঠিয়েছেন, অথচ সে স্নাতক শেষ করেও কাজ খুঁজে পায়নি, যেন স্নাতক মানেই বেকারত্বের ছন্দে নিজেকে আবিষ্কার করছে।
ইংরেজির ছয় স্তরের সার্টিফিকেট, কম্পিউটারের দ্বিতীয় স্তরের সার্টিফিকেট, প্রথম পুরস্কারের স্কলারশিপ, চমৎকার ছাত্রনেতা হিসেবে স্বীকৃতি, স্নাতক ডিগ্রি ও স্নাতক পাসের সার্টিফিকেট—এসব ছিল তার রক্ত-ঘামে কেনা, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত চাকরি কিছুই জোটেনি। বাবার হাতের ওপর জমা পড়া কঠিন কড়া, মায়ের বারবার রং করা শ্বেতকেশ, সবকিছু উপেক্ষা করে আবারও কি ব্যাগপত্র গুছিয়ে বাড়ি ফিরবে সে?
চেন শু যখন আরও বেশি হতাশ হয়ে পড়ছিল, তখনই তার মোবাইল বেজে উঠল; ওই মুহূর্তে মোবাইলের ষোড়শ সুরটিও যেন অপরূপ মনে হচ্ছিল।
—চেন শু! কী করছো? এখনো ছাত্রাবাসেই আছো?
—এখানে না থাকলে যাবোই বা কোথায়? তুই কোথায়?
—দ্রুত জিনিসপত্র গুছিয়ে ফেল, আমরা স্বাস্থ্য ভবনে একটা ঘর ভাড়া পেয়ে গেছি, তুই তো আবার সত্যিই বাড়ি ফিরতে চাস না তো?
—ঠিক কোথায় কয়েকদিন থাকবো তাই ভাবছিলাম। যাচ্ছি, একটু অপেক্ষা কর! কোথাও চলে যাস না, নইলে এসে তোকে খুঁজে পাবো না!
ফোন কেটে দিয়েই চেন শুর মধ্যে নতুন উদ্যম ফিরে এল। দ্রুত বিছানার চাদর, বালিশ আর বাকিসব গুছিয়ে নিল, স্কুল গেটের সামনে গিয়ে একটা ট্যাক্সি ধরল, লাগেজ তুলে সোজা স্বাস্থ্য ভবন অভিমুখে রওনা দিল। মনে মনে বাড়ি ফেরার চিন্তাটাকে আকাশে উড়িয়ে দিল।
গাড়ির জানালা দিয়ে দেখা দ্রুতগামী বিলাসবহুল গাড়িগুলো দেখে মনে হচ্ছিল, তাংশানের রাস্তায় বিলাসবহুল গাড়ির সংখ্যা শানশির কয়লাখনির মালিকদের থেকে কো